সকাল ও সন্ধ্যার আমল
●● সকাল
ও সন্ধ্যার আমলঃ ১ - সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার বা ক্ষমা প্রার্থনার সর্বশ্রেষ্ঠ দু'আ
(১ বার)
“সায়্যিদুল ইস্তিগফার”
বা
“ক্ষমা প্রার্থনার শ্রেষ্ঠ দুয়া”
নামে
একটা দুয়া আছে – আন্তরিক
বিশ্বাসের সাথে কেউ যদি প্রতিদিন সকাল (ফযরের পরে) ও সন্ধ্যায় (আসর বা মাগরিবের
পরে) পড়ে – আর
সে ঐদিন মারা যায় – ইন
শা’ আল্লাহ
সে জান্নাতে যাবে। এই গ্যারান্টি দিয়ে গেছেন স্বয়ং রাসুলুল্লাহ (সাঃ)। [বুখারী, তিরমিযী
৫/৪৬৬] [দুয়াটি পাবেন হিসনুল মুসলিম বইয়ের ১২৭ নাম্বার পৃষ্ঠাতে]
اللَّهُمَّ
أَنْتَ رَبِّي لَّا
إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ،
خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ،
وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ
وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ، أَعُوذُ
بِكَ مِنْ شَرِّ
مَا صَنَعْتُ، أَبُوءُ
لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ،
وَأَبُوءُ بِذَنْبِي فَاغْفِر
لِي فَإِنَّهُ لَا
يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا
أَنْتَ
উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা আনতা রাব্বি লা-ইলাহা ইল্লা আনতা, খালাক্বতানি
ওয়া আনা আ’বদুক,
ওয়া
আনা-আ’লা আহ’দিকা
ওয়া-ওয়াদিকা মাস্তা-তোয়া’ত, আ’উযুবিকা মিন শাররি মা-ছানাআ’ত
আবু-উ-লাকা বিনি’মাতিকা আলায়্যা ওয়া-আবু-উ-বি-যামবি, ফাগফিরলী, ফা-ইন্নাহু
লা ইয়াগফিরুযযুনুবা ইল্লা-আনতা। [বুখারী]
অর্থঃ হে আল্লাহ! তুমি আমার প্রতিপালক, তুমি
ছাড়া আর কোন উপাস্য নেই। তুমি আমাকে সৃষ্টি করেছো আর আমি তোমার বান্দা। আমি আমার
সাধ্যানুযায়ী তোমার সাথে যে ওয়াদা করেছি তা পূরণ করার চেষ্টায় রত আছি, আমি
আমার কর্মের অনিষ্ট থেকে পানাহ্ চাই,
আমি
স্বীকার করছি আমার প্রতি তোমার প্রদত্ত নিয়ামতের কথা এবং আমি আরো স্বীকার করছি
আমার পাপে আমি অপরাধী, অতএব তুমি আমাকে ক্ষমা করো, তুমি
ছাড়া ক্ষমা করার আর কেউ নাই।
●● সকাল
ও সন্ধ্যার আমলঃ ২ - কিয়ামতের দিন আল্লাহর সন্তুষ্টি বা জান্নাত পাওয়ার জন্য সহজ
আমল (৩ বার)
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ “আল্লাহ (তাঁর বান্দাদের সাথে) ওয়াদা করেছেন যে, যে
ব্যক্তি প্রত্যেক দিন সকালে ৩ বার ও সন্ধ্যায় ৩ বার এই দুআ পড়বে, কিয়ামতের
দিন আল্লাহ তার উপর সন্তুষ্ট থাকবেন"। [হিসনুল মুসলিম, পৃষ্ঠা
১৩৮]
رَضِيْتُ
بِاللهِ رَبـاًّ، وَبِاْلإِسْلاَمِ دِيْنـًا،
وَبِمُحَمَّدٍ نَبِيـًّا
উচ্চারণঃ রদ্বীতু বিল্লা-হি রব্বান, ওয়াবিল
ইসলা-মি দ্বীনান, ওয়াবি মুহা’ম্মাদিন সাল্লাল্লা-হু আ’লাইহি
ওয়া সাল্লামা নাবিয়্যান। (৩ বার)
অর্থঃ আমি আল্লাহকে রব হিসাবে, ইসলামকে
দ্বীন হিসাবে ও মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে নবী হিসেবে গ্রহণ
করে সন্তুষ্ট”।
[আহমাদঃ ১৮৯৬৭, নাসাঈ, ইবনুস
সুন্নীঃ ৬৮, আবু দাউদঃ ১৫৩১, তিরমিযীঃ
৩৩৮৯। আব্দুল আজীজ ইবনে বায (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর ‘তুহফাতুল
আখইয়ার’ এর
৩৯ পৃষ্ঠায় এই হাদীসকে “হাসান সহীহ” বলেছেন]
●● সকাল
ও সন্ধ্যার আমলঃ ৩ – দুনিয়া
ও আখেরাতের যেকোনো টেনশান বা দুঃশ্চিন্তা এবং মানসিক অস্থিরতা থেকে বেঁচে থাকার
জন্য আমলঃ (৭ বার)
রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ “যে
ব্যক্তি সকালে ও সন্ধ্যায় ৭ বার এই দুয়া পাঠ করবে আল্লাহ্ তার সকল চিন্তা, উৎকণ্ঠা ও সমস্যা মিটিয়ে দেবেন”।
[হিসনুল
মুসলিম ১৩২-১৩৩ নাম্বার পৃষ্ঠা। সুনান আবূ দাউদ, হাদীস
৫০৮১]
উল্লেখ্য এই দুয়াটা সুরা তাওবার সর্বশেষ ১২৯ নাম্বারে
আয়াতে আল্লাহ তাআ’লা পড়ার জন্য বলেছেন।
حَسْبِيَ
اللهُ لاَ إِلَهَ
إِلاَّ هُوَ عَلَيْهِ
تَوَكَّلْتُ وَهُوَ رَبُّ
الْعَرْشِ الْعَظِيْمِ
উচ্চারণঃ হা’সবিয়াল্লাহু
লা-ইলাহা ইল্লা-হুয়া, আ’লাইহি তাওয়াক্কালতু,
ওয়া
হুয়া রব্বুল আ’রশিল আ’যীম।
অর্থঃ আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট, তিনি
ছাড়া আর কোন মা’বুদ নাই,
আমি
তাঁরই উপর নির্ভর করছি, তিনি মহান আরশের প্রভু।
●● সকাল
ও সন্ধ্যার আমলঃ ৪ – চারজন
দাস মুক্ত করার সমান সওয়াব পাওয়ার আমলঃ (১০ বার)
لاَ
إِلَهَ إِلاَّ اللهُ
وَحْدَهُ لاَ شَـرِيْكَ
لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ
وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ
عَلَى كُلِّ شَيْءٍ
قَدِيْرٌ
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি ‘লা
ইলাহা ইল্লাল্লাহু অহ্দাহু লা শারীকা লাহ,
লাহুল
মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া আ’লা
কুল্লি শায়ইন ক্বাদীর’ দিনে
দশবার পাঠ করবে, সে ব্যক্তি ইসমাইল (আঃ)
বংশের চারজন দাস মুক্ত করার সমান সওয়াব পাবে।" [সহীহ্ বুখারীঃ ৬৪০৪, মুসলিম
৪/২০৭১]
●● সকাল-সন্ধ্যার
আমলঃ ৫ -আয়াতুল কুরসী পাঠ (১ বার)
রাসূলুল্লাহ (সা) বলেনঃ "যে ব্যক্তি সকাল হওয়ার পর
আয়াতুল কুরসী পড়বে, সন্ধ্যা পর্যন্ত জ্বিন বা
শয়তানের কবল হতে সে হিফাযতে থাকবে। আর যদি সে সন্ধ্যা হওয়ার পর পাঠ করে, সকাল
হওয়া পর্যন্ত সে জ্বীন বা শয়তানের কবল হতে হিফাযতে (নিরাপদে) থাকে।"
-[নাসায়ী]
●● সকাল-সন্ধ্যার
আমলঃ ৬ - "সূরা ইখলাছ, সূরা আল ফালাক্ব, সূরা
আন-নাস পাঠ করা।" -(আবু দাউদ,
তিরমিযী)
●● সকাল-সন্ধ্যার
আমলঃ ৭ -"সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি" পাঠ করা । (১০০ বার) -[সহীহ
মুসলিম]
যে ব্যক্তি সকালে ১০০ বার এবং
সন্ধ্যায় ১০০ বার এই তাসবীহ পাঠ করবে, কিয়ামতের
দিন তার চাইতে উত্তম আমল নিয়ে আর কেউ আসতে পারবে না। তবে, ঐ ব্যক্তি ব্যতীত, যিনি অনুরূপ তাসবীহ পাঠ করেছে
অথবা তার চাইতে বেশি আমল করেছে।
মোঃ মাহবুবুর রহমান
সহকারি শিক্ষক
কাজলারপাড় উচ্চ বিদ্যালয়

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন